লোড হচ্ছে...
মাস্কাট: ওমানের আকাশে আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে বার্ষিকভাবে দেখা দিতে শুরু করেছে সুহাইল বা ক্যানোপাস নক্ষত্র। দেশটির ঐতিহ্যবাহী জ্যোতির্বিজ্ঞানে এই নক্ষত্র...
মাস্কাট: ওমানের আকাশে আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে বার্ষিকভাবে দেখা দিতে শুরু করেছে সুহাইল বা ক্যানোপাস নক্ষত্র। দেশটির ঐতিহ্যবাহী জ্যোতির্বিজ্ঞানে এই নক্ষত্রের আবির্ভাবকে দীর্ঘদিন ধরে গ্রীষ্মের তীব্রতা কমে ঋতু পরিবর্তনের শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ওমানি সোসাইটি ফর অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড স্পেস-এর কমিউনিটি আউটরিচ কমিটির প্রধান উইসাল বিনতে সালেম আল-হিনাই জানান, পৃথিবী থেকে প্রায় ৩১৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত সুহাইল রাতের আকাশের দ্বিতীয় উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। এর বিশেষ হলদে-সাদা আভা সহজেই নজর কাড়ে।
ওমান নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-হিনাই বলেন, সুহাইলের আবির্ভাব সরাসরি আবহাওয়া বা তাপমাত্রা পরিবর্তন করে না। তবে ওমানের প্রাচীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক জ্ঞানে এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি ঋতুসূচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
প্রাচীনকালে ‘সুহাইল গণনা’ ব্যবহার করে ঋতু পরিবর্তনের সময় নির্ধারণের পাশাপাশি কৃষিকাজ ও সামুদ্রিক কার্যক্রমের পরিকল্পনা করা হতো। ওমানি নাবিকরা দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় দিক নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও এই নক্ষত্রের ওপর নির্ভর করতেন।
এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী আফলাজ সেচব্যবস্থায়ও নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের ভূমিকা ছিল। আথার ও বাদাহর মতো স্থানীয় পদ্ধতিতে পানির বণ্টন ও সেচের সময়সূচি নির্ধারণে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ কাজে লাগানো হতো।
আল-হিনাই জানান, সুহাইলের আবির্ভাব ওমানের লোকজ সংস্কৃতি ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা নানা প্রবাদ-প্রবচনের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। আগস্টের দ্বিতীয়ার্ধে এটি প্রথমে সূর্যোদয়ের আগে দক্ষিণ-পূর্ব দিগন্তের কাছাকাছি দেখা যায় এবং সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে আরও ওপরে উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুহাইলের বার্ষিক আবির্ভাব আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ওমানের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে একসূত্রে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশটির প্রাচীন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।
Google AdSense Space
গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদনের পর এখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে