লোড হচ্ছে...
ঢাকা: বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু ম...
ঢাকা: বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে। তবে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অ্যামচ্যাম আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ ও ‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি: নীতি সংস্কার থেকে কার্যকর বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, সেখানে আর্থিক খাত, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে ন্যূনতম দুই বছর সময় লাগতে পারে।
অর্থনীতিতে ইন্টারনেটের গুরুত্ব
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন ও শক্তিশালী ইন্টারনেটকে অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে দেশের সব নাগরিকের কাছে প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য শক্তিশালী ইন্টারনেট অবকাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।
জ্বালানি মিশ্রণ নিয়ে কাজ করছে সরকার
বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের সমন্বয়ে একটি জ্বালানি মিশ্রণ নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান আমির খসরু। গ্যাসের ক্ষেত্রে ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল (এফএসআরইউ) এবং স্থলভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে সিদ্ধান্ত শিগগিরই জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সংস্কার
অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে যেসব সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেগুলোর অনেকগুলোই দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে। কর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ব্যবসা পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা কমাতে সরকারের বাজেটে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, শুধু বাজেট বক্তৃতায় সংস্কারের কথা বললেই হবে না, সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
ডিরেগুলেশন কার্যক্রম তদারকিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে জানিয়ে আমির খসরু বলেন, কোনো ব্যবসায়ী বা নাগরিক সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথাও আটকে গেলে একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিদিন এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করবে। প্রয়োজনে কিছু আইন পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
লালফিতার দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি দূর করার উদ্যোগ
ব্যবসায়ীদের অন্যতম অভিযোগ হিসেবে লালফিতার দৌরাত্ম্য, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, হয়রানি ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং গভীরভাবে প্রোথিত। এগুলো দূর করে ব্যবস্থাকে সঠিক পথে আনাই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।
কর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর পাশাপাশি করনীতি প্রণয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানান আমির খসরু। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যক্রম আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। করনীতি প্রণয়নে ব্যবসা ও রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর প্রভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, করনীতি কীভাবে তৈরি হচ্ছে, সেটিই অনেক সময় মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কোনো নীতি প্রণয়নের আগে তা ব্যবসা, করদাতা, রাজস্ব আদায় ও ভোগের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
করব্যবস্থা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় করার পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, কর-সংক্রান্ত রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য সেবা অনলাইনে রিয়েল টাইমে দেওয়া সম্ভব হলে হয়রানি ও অনিয়ম অনেকটাই কমবে।
Google AdSense Space
গুগল অ্যাডসেন্স অনুমোদনের পর এখানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হবে